আজ ৪ অক্টোবর ২০২৬। বিগত দুই দিন যাবৎ সামাজিক মাধ্যম সহ বিভিন্ন জায়গায় মো.ক. গান্ধী ও লাল বাহাদুর শাস্ত্রী সম্পর্কে বিভিন্ন আলাপ আলোচনা পড়লাম, শুনলাম, দেখলাম। যে বিষয়টা কোথাও চোখে পড়ল না সেটা হল পুনা চুক্তি ও সেই প্রসঙ্গে গান্ধীজীর অবদান। আজ যখন তফশিলি জাতি ও উপজাতি সংক্রান্ত আইনকে ঘিরে হিন্দু সমাজ প্রায় আড়াআড়ি দ্বিধাবিভক্ত তখন এই বিষয়টাই সর্বাধিক আলোচনায় উঠে আসা উচিত ছিল না কি?
২৪ সেপ্টেম্বর ১৯৩২ পুনায় স্বাক্ষরিত হয়েছিল ঐতিহাসিক পুনা চুক্তি। ভারতীয় গণতন্ত্রের রাজনৈতিক কাঠামো এবং সামাজিক ন্যায়বোধের উপর এই চুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী। কিন্তু দুঃখ ও উদ্বেগের বিষয় হল এই বিষয়ে কোথাও কোন আলোচনা আমরা বিশেষ দেখছি না।
পুনা চুক্তিকে যথার্থভাবে বুঝতে হলে ১৯৩২ সালের সেই দিনটিকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখা চলে না। এর পশ্চাতে ছিল কয়েক বছরের সাংবিধানিক বিতর্ক—বিশেষতঃ Round Table Conference-সমূহে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সংখ্যালঘু অধিকার, নির্বাচনে সকলের অংশগ্রহণের অধিকার বা franchise এবং তথাকথিত দলিত শ্রেণীর (‘Depressed Classes’) সাংবিধানিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত গভীর আলোচনা।
১৯৩০ সালে লণ্ডনে প্রথম Round Table Conference আয়োজিত হয়। ড. বি. আর. আম্বেডকর এবং রাওবাহাদুর আর. শ্রীনিবাসন দলিত শ্রেণীর (Depressed Classes) প্রতিনিধি রূপে অংশগ্রহণ করেন। বাবাসাহেব ভীমরাও সেখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করেন—যে জনগোষ্ঠী সামাজিক কাঠামোর মধ্যেই দীর্ঘকাল বঞ্চিত ও অধঃপতিত রূপে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে, তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি কেবলমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজের সদিচ্ছার উপর ন্যস্ত থাকতে পারে?
বাবাসাহেবের কাছে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব আইনসভায় কয়েকটি আসন লাভের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। সামাজিক মর্যাদার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের একটি সাংবিধানিক উপায় রূপে তিনি রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বকে দেখতেন। অনেক ঐতিহাসিক ও আলোচক বলে থাকেন যে বাবাসাহেব প্রথম থেকেই যে কোনও পরিস্থিতিতে দলিতদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর পক্ষপাতী ছিলেন। এমনটা বললে সরলীকরণ হয়ে যায়। ১৯৩১ সালের আলোচনায় তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার (universal adult franchise) নিশ্চিত করা হলে দলিত শ্রেণী যৌথ নির্বাচকমণ্ডলীর মধ্যেও সংরক্ষিত আসন মেনে নিতে পারে; কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে তাঁদের পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর প্রয়োজন হবে। তাঁর দাবি স্পষ্ট ছিল। তিনি লিখেছেন, “the right of the Depressed classes to effective representation on the Local Bodies shall be recognized by the Provincial Government.” (২৯ মে ১৯২৮ তারিখে বহিষ্কৃত হিতকারিণী সভার পক্ষে Indian Statutory Commission অর্থাৎ সাইমন কমিশনের নিকট পেশ করা প্রতিবেদন) অর্থাৎ, তাঁর মূল ভাবনা সংখ্যাকে ঘিরে ছিল না। তিনি ভেবেছেন পরিণামকারী ও প্রভাবী প্রতিনিধিত্বের (effective representation) কথা।
এই বিষয়ে বিতর্কের তীব্রতা আরও প্রখর হয় দ্বিতীয় Round Table Conference (১৯৩১)-এ। এবার গান্ধীজী Indian National Congress-এর প্রতিনিধি হিসেবে এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। গান্ধীর দৃষ্টিতে Depressed Classes হিন্দু সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ; তাঁদের জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী হিন্দু সমাজকে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক বিভাজনের দিকে ঠেলে দেবে। আম্বেডকরের যুক্তি ছিল ভিন্ন। শতাব্দীর পর শতাব্দী যে দলিত শ্রেণীকে সমাজের সংখ্যগরিষ্ঠ অংশ ব্রাত্য করে রেখেছে। সেই সমাজে রাজনৈতিক কাঠামোতে সংখ্যগরিষ্ঠ অংশেরই যদি প্রতিপত্তি বজায় থাকে তবে দলিত শ্রেণীর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হতে পারে না।
দুজনেরই যুক্তি ছিল প্রবল ও ঐতিহাসিক তথ্য নির্ভর। এবং এই কথা স্মরণে রাখা বিশেষ প্রয়োজন যে, গান্ধী ও আম্বেডকর–উভয়ের কেউই গান্ধীবাদী বা ভীমবাদী ছিলেন না। এই প্রসঙ্গে তাঁরা দুজনেই হিন্দু সমাজের সর্বাঙ্গীণ কল্যাণের কথাই চিন্তা করেছেন। সমাজের বিঘটন বা বিভাজন দুজনের কারও অভিপ্রেত ছিল না। গান্ধী হরিজনদের উত্থান ও ক্ষমতায়নের জন্য আজীবন প্রচেষ্টা করেছেন। গান্ধী মনে করেছেন, পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী তৈরি হলে মূল হিন্দু সমাজ থেকে দলিত শ্রেণী সরে যাবে এবং সেই পারস্পরিক দূরত্ব কখনও মেটানো যাবে না। আম্বেডকর মনে করেছেন, সমাজের সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্য দলিত শ্রেণীর ক্ষমতায়ন প্রয়োজন। সেই ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করার জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী প্রয়োজন।
অতএব গান্ধী ও আম্বেডকরের মতপার্থক্যকে কেবল ব্যক্তিগত বিরোধ বা জেদ বলে উড়িয়ে দিলে ইতিহাসের সঙ্গে অন্যায় করা হয়। গান্ধী ও আম্বেডকরের মতবিরোধের গর্ভে লুকিয়েছিল একটি গভীরতর সাংবিধানিক প্রশ্ন— রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তি কি সামাজিক ঐক্য, নাকি সামাজিকভাবে বঞ্চিত মানুষের স্বাধীন রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন?
Round Table Conference-এ এই প্রশ্নের কোনও সর্বসম্মত সমাধান হয়নি। ফলে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Ramsay MacDonald ১৯৩২ সালে Communal Award ঘোষণা করেন। এই Award-এ শিখ, মুসলিম, এংলো-ইণ্ডিয়ান ইত্যাদির মত দলিত শ্রেণীর জন্যও পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর নিদান দেওয়া হয়।
গান্ধী এই সিদ্ধান্তকে হিন্দু সমাজের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করেন। তিনি তখন ইয়েরওয়াড়া কারাগারে বন্দি। সেই অবস্থাতেই তিনি এই সরকারি ব্যবস্থার প্রতিবাদে আমরণ অনশন ঘোষণা করেন। ফলে আম্বেডকরের সামনে দেখা দেয় এক অভূতপূর্ব নৈতিক ও রাজনৈতিক সংকট। একদিকে তাঁর দীর্ঘদিনের দাবি—দলিত শ্রেণীর পরিণামকারী রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব; অন্যদিকে গান্ধীর জীবন এবং বৃহত্তর সামাজিক ও জাতীয় সংহতির প্রশ্ন।
শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে একটি বোঝাপড়ার পথ উন্মুক্ত হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর সম্পাদিত হয় বিখ্যাত পুনা চুক্তি। গান্ধী নিজে পুনা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেননি। মূল চুক্তিতে দলিত শ্রেণীর অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে ড. বি. আর. আম্বেডকর এবং অপর পক্ষের অন্যতম প্রধান প্রতিনিধি হিসেবে পণ্ডিত মদনমোহন মালব্য স্বাক্ষর করেন। মূল চুক্তিতে মোট ২৩ জন স্বাক্ষর করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তেজবাহাদুর সপ্রু, এম. আর. জয়কর, এম. সি. রাজা, সি. রাজাগোপালাচারী, রাজেন্দ্র প্রসাদ, ঘনশ্যামদাস বিড়লা এবং গান্ধীর পুত্র দেবদাস গান্ধী। পরদিন বোম্বাইয়ে আরও ১৮ জনের স্বাক্ষর যুক্ত হয়। ড. আম্বেডকরের Writings and Speeches-এ এই দুই পর্যায়ের স্বাক্ষরকারীদের পৃথক তালিকা সংরক্ষিত আছে।
পুনা চুক্তির মূল সূত্র ছিল পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর পরিবর্তে যৌথ নির্বাচকমণ্ডলীর মধ্যে দলিত শ্রেণীর জন্য সংরক্ষিত আসন। প্রাদেশিক আইনসভাগুলিতে তাঁদের জন্য মোট ১৪৮টি আসন সংরক্ষিত হয়। উল্লখ্য, Communal Award-এ দলিত শ্রেণীর জন্য পৃথক নির্বাচকমণ্ডলীর অধীনে ৭১টি আসনের ব্যবস্থা ছিল; পুনা চুক্তিতে পৃথক নির্বাচকমণ্ডলী বিলুপ্ত করে যৌথ নির্বাচকমণ্ডলীর মধ্যে সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ১৪৮ করা হয়। ফলে নতুন চুক্তিতে দলিত শ্রেণী প্রতিনিধিত্ব প্রায় দ্বিগুণিত হল। পরিণামকারী (effective) প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত আসনগুলির ক্ষেত্রে একটি দ্বিস্তরীয় নির্বাচনী পদ্ধতি নির্ধারিত হয়। প্রথম পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার দলিত শ্রেণীর নির্বাচকেরা নিজেদের মধ্যে থেকে চারজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করতেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে সাধারণ নির্বাচকমণ্ডলী (joint electorate) সেই চারজনের মধ্য থেকে একজনকে চূড়ান্ত প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করত। প্রতিনিধিত্বের পরিণামকারিতা সুনিশ্চিত করার জন্য এই দ্বিস্তরীয় নির্বাচনী পদ্ধতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সরকারি চাকরিতে ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব এবং শিক্ষার জন্য সরকারি অনুদান থেকেও তাঁদের যথাযথ অংশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয় এই চুক্তিতে।
পুনা চুক্তি তৎকালীন হিন্দু সমাজের দুটি শক্তিশালী নৈতিক-রাজনৈতিক অবস্থানের সংঘাত ও সমঝোতার দলিল। আম্বেডকর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও সাংবিধানিক safeguards-এর মাধ্যমে সামাজিক বঞ্চনার অবসান চেয়েছিলেন; গান্ধী একই সঙ্গে সামাজিক আত্মশুদ্ধি এবং বৃহত্তর হিন্দু সমাজের ঐক্য রক্ষা করতে চেয়েছিলেন।
তাঁদের পথ ছিল ভিন্ন, ভাষাও ছিল ভিন্ন; কিন্তু ভারতীয় রাষ্ট্রব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের ভাবনা পরস্পরবিরোধী বললে সত্যের অপলাপ হয়। উভয়ের নিকটই সামাজিকভাবে অপমানিত মানুষের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রশ্নটিই ছিল প্রধান ও মৌলিক প্রশ্ন। কিন্তু তাঁদের পার্থক্য ছিল সেই লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতি ও রাজনৈতিক দর্শনে।
স্বাধীনতার পর ভারতীয় সংবিধানে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতির জন্য রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন সাংবিধানিক সুরক্ষার যে ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়, তার বৌদ্ধিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বকে যথাযথ ভাবে বুঝতে হলে পুনা চুক্তিকে বোঝা আবশ্যক। সেই অর্থে পুনা চুক্তি ১৯৩২ সালের একটি রাজনৈতিক আপস মাত্র নয়; এটি ভারতীয় গণতন্ত্রে প্রতিনিধিত্ব, সামাজিক ন্যায় এবং সাংবিধানিক সুরক্ষার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণের দীর্ঘ যাত্রাপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
প্রায় এক শতাব্দী পরে আজ যখন SC/ST (Prevention of Atrocities) Act-কে ঘিরে নানা বিতর্ক দেখা দিয়েছে, তখন পুনা চুক্তির ইতিহাস আমাদের জন্য নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। মধ্যকালীন হিন্দু সমাজে (বিশেষ করে ইসলামিক আক্রমণের পরবর্তীকালে) জাতিভিত্তিক বৈষম্য, নির্যাতন ও অপমানের ঐতিহাসিক বাস্তবতা অস্বীকার করার কোনও অবকাশ নেই। সেই কারণে সামাজিকভাবে বঞ্চিত শ্রেণীর জন্য শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা অপরিহার্য। কিন্তু একই সঙ্গে আইনের শাসন, ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নির্দোষ ব্যক্তির অধিকারও একটি সভ্য সাংবিধানিক রাষ্ট্রের অবিচ্ছেদ্য ভিত্তি।
অতএব আজ প্রশ্নটিকে কেবল—“SC/ST Act থাকবে কি থাকবে না?”—এমন সরল দ্বৈত বৈকল্পিকতায় সীমিত করা যাবে না। প্রকৃত প্রশ্ন হল: কীভাবে এমন একটি আইন ও তার প্রয়োগব্যবস্থা নির্মিত হবে, যা ঐতিহাসিকভাবে দলিত মানুষকে যথার্থ সুরক্ষা দেবে, অথচ একই সঙ্গে ন্যায়বিচারের সর্বজনীন নীতিগুলিকেও অক্ষুণ্ণ রাখবে? সর্বোপরি এই বিষয়ে ভাবতে হবে যে, এই আইন দলিত শ্রেণীকে সমাজের মূল স্রোতের সঙ্গে কতটা শীঘ্র মিশিয়ে দিতে পারবে যাতে এই ধরনের কোন আইনের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতাই না থাকে। সুস্থ মননে আজকের ভাবনা হওয়া উচিত, এমন একটি সামাজিক ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ কত দ্রুত প্রতিষ্ঠিত করা যায়, যেখানে জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বিশেষ সুরক্ষামূলক আইনের প্রয়োজন ক্রমশ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে।
পুনা চুক্তির ইতিহাস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে সামাজিক ন্যায় এবং সামাজিক সংহতি—দুটিই রাষ্ট্রজীবনের অপরিহার্য মূল্যবোধ। একটির নামে অন্যটিকে বিসর্জন দিলে ন্যায়ের পূর্ণতা আসে না। ১৯৩২ সালে গান্ধী ও আম্বেডকরের সামনে যে জটিল প্রশ্ন ছিল, তার রূপ আজ পরিবর্তিত হলেও তার মৌলিক তাৎপর্য এখনও অম্লান—দলিতের অধিকারকে সুরক্ষিত রেখেও কীভাবে একটি ন্যায়ভিত্তিক, অবিভাজিত এবং সকলের জন্য সমান মর্যাদাসম্পন্ন সমাজ নির্মাণ করা যায়—ভারতীয় গণতন্ত্রের কাছে আজও এটাই অন্যতম প্রধান পরীক্ষা।