ছাতিমের ছায়ায় আধশোয়া অজাতি কাঠফাটা জ্যৈষ্ঠ রোদের দিকে তাকিয়ে অলস হাঁই তুলে বলল, “এবচ্ছরও দশহরায় আকাশে মেঘ নেই। সাপের ডিম ফুটবে। নোনা সোনা, চাঁদ সোনা, শাঁখামুটি সক্কলের ছানাপোনা বেরোবে।” জাঙ্গুলিমন্দিরের ফণীমনসার বেদীটায় গাঁয়ের মেয়েবউরা কোন সকালে ফলমূল আর দুধের পাত্তর সাজিয়ে রেখে চলে গেছে। একটু পরে ন্যাড়া পুরোহিত ঢুকে দায়সারা গোছের ঘণ্টা নাড়বে। পুজো মিটলে প্রসাদী দুধকলার অর্ধেক ভাগ অজাতির। ও না পাহারায় থাকলে এই মন্দিরের ধার কেউ মাড়ানোর সাহস পায় না। পাশের ছোট্ট শনবনটায় গিজগিজ করছে কমপক্ষে বিশ-পঁচিশ জাতের বিষধর সাপ। ওরা একবার যার পায়ের শব্দ পেয়ে যায় তার মৃত্যু অবধারিত। দেশ-বিদেশের কত বড় বড় সাপুড়ে এখানে বীরত্ব দেখাতে এসে বেঘোরে মরল। একমাত্র অজাতির কাছেই ওরা জব্দ। সাত পুরুষ ধরে এ-তল্লাটে অজাতির বংশ বীণ বাজাচ্ছে। ও লাঠি ঠুকলে মাটির কাঁপনেই ওরা বুঝে ফেলে। ফনা নামিয়ে চুপচাপ যে যার গর্তে ঢুকে পড়ে। ওদের নিয়েই অজাতির রুটিরুজি। দুটো লাল বালুবোড়া ধরে সাহেবদের দিতে পারলেই কাঁচা পয়সা। তাই দশহরায় মেঘ না ডাকলে অজাতির মতো খুশি ত্রিভুবনে কেউ হয় না। এবার ঘরের জল চোঁয়ানো চালখানা সারানো যাবে। বউ-মেয়ে নতুন শাড়ী পরতে পাবে।
ভাবতে ভাবতে অজাতির মনে আনন্দে ধরছিল না। হঠাৎ পেছন থেকে কে বলল, “আর যদি আজ মেঘ ডাকে! যদি ধর্ম-চণ্ডীর পদের সুরে আকাশ কালো করে বৃষ্টি নামে! তখন কী হবে? বালুবোড়ার সবক’টা ডিম হয়তো ফুটবে না। অজাতির ঘরের চাল সারবে না। বউ-মেয়ে শাড়ী পাবে না। কিন্তু মাঠে ভালো ফসল ফলবে। ফসল ফললে অর্থ আসবে। অর্থ এলে অজাতি বালুবোড়া ধরবে না। মনসার সন্তানেরা প্রাণে বাঁচবে।” অজাতি ঘোর ভেঙ্গে ধড়মড়িয়ে উঠে বসল। গেরুয়া বস্ত্র পরা এক তরুণ ব্রহ্মচারী কখন তার পিছনে এসে দাঁড়িয়েছেন। জাগুলি গাঁয়ে গাজনের সময়ে দূর দূর থেকে সাধু সন্ন্যাসী আসেন, নতুন কিছুই নয়। কিন্তু এত সুপুরুষ সন্ন্যাসী অজাতি আগে কখনো দেখেনি। ইনি অঘোরী কাপালিক তান্ত্রিকদের মতো ভস্ম-শ্মশ্রূমণ্ডিত নন। চোখে লাল ভাব নেই। হাতে গাঁজার ছিলিম নেই। বদলে কালো পাথরের একখানি ধ্যানী শিবমূর্তি— কোলের কাছে হাত দুটো জড়ো করা, ত্রিশূল আর বুকের সাপ নিখোঁজ, অজিনবাস শুধু কোমরটুকু আবৃত না করে বাঁ কাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। ভক্তিতে অজাতির মাথা নত হয়।
“আপনি কে, বাবা? কোথা থেকে এসেছেন? আমার পরিবারের খবর আপনি কী করে জানলেন!”
প্রথম প্রশ্ন দুটোর উত্তর এড়িয়ে গিয়ে সন্ন্যাসী শেষ প্রশ্নের উত্তর দেন, “জাঙ্গুলিঘাটার এমন কোনো কাহিনী নেই যা আমার অজানা। দ্বিসহস্র বৎসর বয়সের এই মনসাবেদী, এই সর্পসঙ্কুল শনারণ্য, গঙ্গার ধারে আমার স্বহস্তে প্রতিষ্ঠিত ভগবানের পাট— এখানে আমি নাগদুর্গার সাধনা করেছি। আর তুমি, মূর্খ, অর্থলোভে এই সিদ্ধপীঠের সাপ নিঃশেষ করতে চলেছ! ওরা নির্জনে মায়ের আঁচল ঘেঁষে খেলা করে, ওরা তোমার কোনো ক্ষতি করেছে?”
“না, বাবা, আমার কোনো ক্ষতি ওরা করেনি, তবে কী…” অজাতি ঢোঁক গেলে, “এ পথ দিয়ে মানুষ এলেই ওরা সর্বনাশ করে, গত দু’বচ্ছরে কুঠির জন্য জায়গা দেখতে আসা দু’জন নীলকর সায়েবের পায়ে বিষ দাঁত বসিয়েছে…”
“মানুষজাতের মনের বিষের চেয়ে ওদের দাঁতের বিষ বেশি? তোমরা ওদের বাস্তুচ্যুত করবে, ওরা দাঁত বসালেই অপরাধ! অজাতি! তুমি বিষে বিষে বিষক্ষয়ের প্রবাদ শোনোনি? মনসা কেন মহেশ্বরের মানসকন্যা, ভুলে গেছ! অহিবিষ গঙ্গাবারিতুল্য। অধর্মীকে দংশন করে। অনুতপ্তের পাপরোগ বিনষ্ট করে। অজাতি, তুমি সাপ ধরা ছেড়ে দাও। আর অধর্ম কোরো না।”
কঠিন গলায় কথা ক’টি বলে সন্ন্যাসী গঙ্গার দিকে হাঁটা মারলেন। ধর্ম ঠাকুরের পাট পেরিয়ে গঙ্গার ঘাট, ময়ূরপঙ্খীর মতো নৌকো, কম্বুঘোষের মতো মিষ্টগম্ভীর কণ্ঠে ঐ তাঁর গান অনুরণিত,
“ব্যপনেহি কাঙ্ক্ষামিহ সংশয়ঞ্চ
আরোচয়ামি অহু ধর্মরাজা।
সমাদপেমি অহমগ্রবোধৌ
ন শ্রাবকাঃ কেচিদিহাস্তি মহ্যম্॥”
ঐ শব্দগুলির মানে অজাতি বোঝে না। কিন্তু ঐ সুর ওর প্রাণ নিঙ্গড়ে চোখে জল আনে। ঐ কণ্ঠই যেন মেঘের ডাক! ভয় হয়, এবার বুঝি বৃষ্টি নামবে। শুকনো পাতায় সরসর আওয়াজ শুনে পিছন ফিরে দেখে একটা লাল বালুবোড়া মায়ের বেদীতে বেয়ে উঠে দুধ খাচ্ছে। লাল বালুবোড়ার বিষ নেই। ধরলে দাম পাওয়া যায় অনেক। কিন্তু ঐ সন্ন্যাসীবাবার গান অজাতির চোখ ঝাপসা করে দিয়েছে। আজকের দিনটায় আর সাপ ধরতে ইচ্ছে করে না। “যাহ্, যাহ্, তাড়াতাড়ি পালা; আমায় লোভ দেখাস নে বেশিক্ষণ!” একটা ভাঙ্গা ডাল অজাতি সাপটার দিকে ছুঁড়ে মারে। সাপটা চলে যায়। যাবার সময়ে গাছতলায় যেখানে বাবা দাঁড়িয়ে ছিলেন সেখানকার ঝরা পাতাগুলো উলটে দিয়ে যায়। মরচে পড়া বইয়ের পৃষ্ঠার মতো একখানি কাগজ অজাতির নজরে আসে। বহু পুরোনো ভুর্জপত্র, মুড়মুড়ে ভঙ্গুর দশা। কীসব অক্ষর লেখা, অজাতি পড়তে পারে না। ওপরে কোনার দিকে কোপনদর্শন এক কালো দেবতার ছবি। এবার অজাতির সত্যিই ভয় লাগে। বাড়ি ফিরে ঠাকুরের আসনে পৃষ্ঠাখানি লুকিয়ে রাখে।
সে-বছর বৃষ্টি নামে না। ভগবান পরীক্ষা নেন। অজাতি সন্ন্যাসীর কথা ভুলে যায়। আবারো সাপ ধরে ধরে মোটা দামে পাচার করে। পরের বছর জ্যৈষ্ঠে গায়ে সাদা সাদা দাগ বেরোয়, চুলকোয়, রস রক্ত ঝরে, অজাতি বোঝে না এ কেমনতর রোগ। প্রথমে পাত্তা দেয় না। পরে শরীরে কষ্ট বাড়ে। হাত দুটো পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। গাঁয়ের কোবরেজ দেখে পাংশু মুখে বলে, “এ যে কুষ্ঠ! ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে! আমাদের গাঁয়ে এর চিকিৎসা নেই।”
দেড় বছর হল অজাতি ঘরবন্দী। রোগের অবস্থা ক্রমশ মন্দ হচ্ছে। গাঁয়ের লোকেরা বাইরে বেরোতে বারণ করেছে। আর সাপ ধরারও উপায় নেই, অর্থের জোগানও নেই। নীলকর সাহেবরাও বোধহয় এবার দেশ ছেড়ে পালাবে। সংসার আর চলে না। মেয়েকে বাপের কাছে বসিয়ে বউটা এর ওর দরজায় ভিক্ষে চেয়ে ঘোরে। আশপাশের গাঁয়ে ছোটে বদ্যির খোঁজ করতে। সাথে সন্ন্যাসীর ফেলে যাওয়া পৃষ্ঠাখানা নিয়ে কোবরেজদের জিজ্ঞেস করে, যদি কেউ সন্ন্যাসীর ঠিকানা বলতে পারে। একদিন এক ধনী কোবরেজ একটা সোনার বাঁটের বিনিময়ে পৃষ্ঠাখানি কিনতে চায়। অজাতির বউ হাতে স্বর্গ পায়। টানাটানির সংসারে এ যেন ভগবানের আশীর্বাদ। নইলে একখানি জীর্ণ কাগজের এত মূল্য হয়! সেই অচিন সন্ন্যাসীকে সে মনে মনে প্রণাম করে।
কোবরেজ দৌড়োয় তার পরিচিত এক পুঁথিবিশারদের কাছে। বলে, “এই কাগজের কত বয়স হতে পারে? এতে পুরোনো নাগরীতে বৌদ্ধ নাগার্জুনের নাম লেখা আছে, আর আছে কুষ্ঠরোগের চিকিৎসার কথা।” দ্বিতীয় পক্ষ কাগজ হাতে নিয়ে দেখে। দেড় হাজার বছরের কম বয়স হতে পারে না। দুই হলেও আশ্চর্যের না। অমূল্য রত্নের সন্ধান পাওয়া গেছে। কোবরেজকে বলা হয় কথা পাঁচকান না করতে। কোবরেজের দুই চোখ ততক্ষণে ঝলসাচ্ছে। যদি সত্যিই এ নাগার্জুনের নিজের হাতে লেখা পুঁথি হয়, এর মূল্য কতয় উঠতে পারে কল্পনারও অতীত। দুই মাথা মিলে ঠিক করে, উত্তরের কোনো বজ্রযানী মঠে গিয়ে নিশ্চিত হতে লাগবে এ কোন পুঁথির পৃষ্ঠা।
দার্জিলিঙের হাটে সিকিমের লামারা এসে ভীড় করে। কোবরেজ আর পুঁথিপণ্ডিত খোঁজ নেয়, কোথায় সংস্কৃত জানা লামা পাওয়া যায়। কে এই পুঁথির আসল পরিচয়ের হদিস দিতে পারে। সংস্কৃত জানা লামা অনেক খুঁজে অবশেষে পাওয়া গেল। পুঁথিপণ্ডিত প্রথমে পৃষ্ঠাখানি দেখাতে চায়নি। নাগার্জুনের কুষ্ঠচিকিৎসার প্রসঙ্গ পেড়ে জিজ্ঞাসা করেছিল, কোন কোন বৌদ্ধ পুঁথি থেকে এর সম্পর্কে জানা সম্ভব। দোরজি লামা বয়োবৃদ্ধ মানুষ। কে কী চাপছে অনুমান করতে পারেন। তাঁর মুখ থেকে সহজে কথা বের করা গেল না। পৃষ্ঠাখানি অনিচ্ছাসত্ত্বেও দেখাতেই হল। ওপরে কোনায় দেবতার ছবিতে লামার চক্ষুস্থির হল। হয়গ্রীব! কোবরেজ সবই পড়তে পেরেছে, কিন্তু বৈদিক বিদ্যাধরের বৌদ্ধ রূপটি চিনতে পারেনি। লামা ফিরতি জিজ্ঞাসা করলেন, এই পৃষ্ঠা কোথায় কীভাবে মিলেছে? কোবরেজ বলতে বাধ্য হল কুষ্ঠয় ভোগা দরিদ্র সাপুড়ে অজাতির কথা। জাগুলি গাঁয়ের কথা। দোরজি লামা তাদের পৃষ্ঠা ফেরত দিলেন না। অতিরিক্ত কোনো তথ্যও দিলেন না। এ জিনিস বৌদ্ধের সম্পত্তি বলে কোঁচড়ে পুরে নিলেন।
সেবছর গাজনে জাগুলি গাঁয়ে বজ্রযানী সন্ন্যাসীদের বাদ্য শোনা গেল। অজাতির বসতবাটীর খোঁজ পড়ল। দোরজি লামা নিজে এসেছেন অসুস্থ অজাতিকে দেখতে। সাথে ওষুধপথ্য এনেছেন। আর এনেছেন সেই মুড়মুড়ে হয়ে যাওয়া পৃষ্ঠা। বাংলা, হিন্দি মিশিয়ে বলছেন, “অজাতি, আমার চিরঞ্জীব গুরু তোমায় কৃপা করে এই পরমধন দিয়ে গেছেন। এ বুকে করে রেখো। কখনো কারো সামনে বের কোরো না। আমি তোমাকে গুরুর মন্ত্র শিখিয়ে যাব, নিত্য জপ কোরো। সুস্থ হয়ে উঠে সৎপথের ভাত খেয়ো। গুরুকে ভালোবেসো।” তাঁর কথার অজাতি কিছু বুঝল না ঠিকই, কিন্তু অজাতির সাংসারিক কামনা বাসনা ততদিনে ঘুচে গেছে। বাঁচার আশা অজাতি ছেড়ে দিয়েছে। শুধু মরার আগে একবার দেখতে চায় সেই অনিন্দ্যসুন্দর জ্যোতির্ময় সন্ন্যাসীকে। শুনতে চায় সেই বজ্রমঞ্জুল কণ্ঠস্বর। সেই প্রাণ গলানো সুরের গান।
অজাতি আগে দশহরায় মেঘের ডাক শুনতে চাইত না। এখন কেবল বৃষ্টির জন্য আকুলি বিকুলি। জ্যৈষ্ঠের গরমে ঘা দগদগ করছে। সংস্কৃত মন্ত্র কি আর নিরক্ষরের মনে থাকে? “ওম্ নাগোজুনো নমো…” না “নাগাজ্জুনো নমো…” জ্বরের ঘোরে ভুলভাল জপ করে আর বলে, “হা প্রভু, কবে তুমি আমাকে জ্বালাপোড়া থেকে মুক্তি দিতে আসবে?” দশহরায় জ্বর আরো বাড়ল। বউমেয়ে হাপুসনয়নে কান্না জুড়ল। অজাতি বিড়বিড়িয়ে বললে, “প্রভু, তুমি আর এলে না। তোমার থলকমলপানা মুখ দেখলে আমি মুক্তি পেতেম।”
ঠিক সেই সময়ে দূর গঙ্গার দিক থেকে গান ভেসে এল,
“জাত্যন্ধে তু মহাবৈদ্যঃ কারুণ্যং সন্নিবেশ্যঃ।
হিমবন্তং স গত্বান তির্যগূর্ধ্বমধস্তথা॥
সর্ববর্ণরস্থানা নগাল্লভত ওষধীঃ।
এবমাদিসহস্রোঽথ প্রয়োগমকরোত্ততঃ॥”
অজাতির ঠোঁটে সান্ত্বনার হাসি ফুটল। ঐ ওর ব্রহ্মচারী প্রভু এসেছেন। ও মানসচক্ষে দেখতে পাচ্ছে, জাঙ্গুলি মায়ের বেদীতে উঠে উদ্বাহু হয়ে প্রভু নাচছেন। প্রভুকে ঘিরে লাল বালুবোড়াগুলো জোড়ে জোড়ে শঙ্খ করছে। আকাশ কালো করে মেঘ ডাকছে। ময়ূর পেখম মেলছে। হর্ষিতা গঙ্গা ধর্ম ঠাকুরের পাট স্নান করিয়ে এগোচ্ছে লোকের পাপ ধোয়াতে। প্রভুর সাথে সর্বভূত বুঝি গেয়ে নৃত্য করছে—
ধর্মরাজা অহং লোকে উৎপন্নো ভবমর্দনঃ।
ধর্মং ভাষামি সত্ত্বানামধিমুক্তিং বিজানিয়॥
ধীরবুদ্ধী মহাবীরা চিরং রক্ষন্তি ভাষিতম্।
রহস্যং চাপি ধারেন্তি ন চ ভাষন্তি প্রাণিনাম্॥
দুর্বোধ্যং চাপি তজ্জ্ঞানং সহসা শ্রুত্ব বালিশাঃ।
কাঙ্ক্ষাং কুর্যুঃ সুদুর্মেধাস্ততো ভ্রষ্টা ভ্রমেয়ু তে॥
যথাবিষয়ু ভাষামি যস্য যাদৃশকং বলম্।
অন্যমন্যেহি অর্থেহি দৃষ্টিং কুর্বামি উজ্জুকাম্॥
যথাপি কাশ্যপ মেঘো লোকধাতূয় উন্নতঃ।
সর্বমোনহতী চাপি ছাদয়ন্তো বসুন্ধরাম্॥
সো চ বারিস্য সম্পূর্ণো বিদ্যুন্মালী মহাম্বুদঃ।
নির্নাদয়ন্ত শব্দেন হর্ষয়েৎ সর্বদেহিনঃ॥
সেবার দশহরার বন্যায় ডুবে জাগুলি গাঁ দুই সপ্তাহ জলের তলায় রইল। দরিদ্র অজাতির ঘরের ফুটো চাল দিয়ে বৃষ্টি পড়ল। তবু অজাতি মরল না। জল নামলে দেখা গেল ওর গায়ের কুষ্ঠের ক্ষত উধাও হয়েছে। প্রভুর ফেলে যাওয়া সেই পৃষ্ঠাখানা ভিজে জবজব করছে, লেখা অক্ষরগুলো সুদ্ধ কোনার ছবিটা যেটুকু অবশিষ্ট ছিল সেটুকুও আর নেই। তবুও পৃষ্ঠাখানি রোদে শুকিয়ে অজাতি পুজোর আসনে সযত্নে তুলে রাখল।
বন্যার পর জমিতে এত ফসল ফলল যে ঘরের চাল সারিয়ে, বউমেয়েকে শাড়ী দিয়ে, মায়ের থান বাঁধিয়েও হাতে পয়সা রইল। সেই উদ্বৃত্ত অর্থে অজাতি ওর ব্রহ্মচারী প্রভুর কোলে দেখা ধ্যানী শিবমূর্তিটার মতো একখানি মূর্তি গড়াল।