Skip to main content
Search
Author
Literature · 11 Sep 2026 · বাংলা · Anupurvi

ধর্মের বাইরে নয়, বিভেদের বাইরে

ধর্মের বাইরে নয়, বিভেদের বাইরে
নৃত্য কি কেবল নান্দনিকতার প্রকাশ, নাকি তা হয়ে উঠতে পারে সামাজিক বক্তব্য, আত্মঅনুসন্ধান ও সত্যের সন্ধানের এক শক্তিশালী মাধ্যম? এই কথোপকথনে উঠে আসে নৃত্যচর্চার উদ্দেশ্য, ‘দেহাঙ্গিভূত নারীবাদ’ প্রকল্প, শিল্পের সামাজিক দায়, শিল্পীর স্বাধীনতা ...

Suraiya Islam Ria: আপনার যে নতুন প্রজেক্ট দেহাঙ্গিভূত নারীবাদ ‘ এমবোডিড ফেমিনিজম’ এটা নিয়ে আপনি কিছু বলতে চান ? আসলে ঠিক কি প্রয়োজনে আপনি এই উদ্যোগটা নিলেন?

Lubna Marium: আমার কাছে মনে হয়েছে এটা টার্গেটেড টুওয়ার্ডস ডান্সারস। নৃত্যশিল্পীরা যাতে নিজেদের নৃত্য চর্চাটাকে আর একটু প্রসারিত করে এটা নিয়ে চিন্তা করে যে নাচ একটা খুবই শক্তিশালী মাধ্যম । শুধু শক্তিশালী নয় লোকে দেখতে চায় নাচ । এটা এট্রাক্টিভ আর নাচের মধ্যে দিয়ে আমরা যদি একটা শক্তিশালী বক্তব্য রাখতে পারি, যদি সমাজে কোন পরিবর্তন আনতে পারি, যদি নারীদের ক্ষমতায়িত করতে পারি তাহলে কেন না । যেমন আকরাম খানের প্রোডাকশন এক্সট্রিমলি পাওয়ারফুল ।নিশ্চয়ই আমরা পূঁজা পার্বণে নাচ ব্যবহার করি ,ঋতু পরিবর্তনের নাচ করতে পারি , কিন্তু হোয়াই নট ইউজ ইট এজ আ পাওয়ারফুল ম্যাসেজেস ।নিশ্চয়ই আমরা কথক ,ভারতনাট্যম যেটা সব সময় চর্চিত হয়েছে সেগুলো শ্রদ্ধা করি কিন্তু চেষ্টা করি নাচের মাধ্যমে যদি আমরা সামাজিক পরিবর্তন আনতে পারি ।

Suraiya Islam Ria: এই প্রজেক্টের থেকে আপনি কি আউট কাম আশা করছেন ?

Lubna Marium: আমার টার্গেট হলো ডান্সারস । ৫৬ জন অ্যাপ্লাই করেছে আমার বাজেট আছে ২০ জনের জন্য কিন্তু আমি ৫৬ জনকে রাখতে চেষ্টা করব কারণ এটা আউট রিচ । যদি ৫৬ জনকে আমি বিশ্বাস করাতে পারি যে নাচ ব্যবহার করে তারা অন্য ধরনের একটা শক্তিশালী বক্তব্য সমাজের সামনে রাখতে পারে হোয়াই নট। হ্যাঁ ঠিক আছে আমি রাধানর্তন করলাম , কৃষ্ণ নর্তন করলাম ওগুলোর মধ্যেও বক্তব্য আছে। বাট সাম হাউস দিস ওভার শ্যাডোড বাই রিলিজিয়াস বিলিভস । তো সেটাকে বাদ দিয়ে সামাজিক বক্তব্য যদি শুধু নাচে রাখি কেন নয় । দেখা যাক চেষ্টা করি Suraiya Islam Ria: এখন পর্যন্ত এই প্রজেক্টটা করতে আপনাকে কি কোন বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে ?

Lubna Marium: কখনই না, কে করবে ওবসট্রাকল । কার সাহস আছে। অন্যায় তো কিছু করছি না । আমার মনে হয় না । যদি সাহিত্য একটা শক্তিশালী বক্তব্য রাখতে পারেন ,নাটক রাখতে পারে ,নাচ কেন পারবে না ।এটা হল আমার ডায়লগ উইথ মাই ড্যান্সারস। এটার টার্গেট হলো ডান্সারস । তাদেরকে আমি বলছি যে প্রশ্ন করো তুমি কিসের জন্য নৃত্য চর্চা করছ । আমি তোমাকেও প্রশ্ন করছি তোমার নৃত্যচর্চার উদ্দেশ্য কি? ইট এ বিগ কোশ্চেন ! সেলিব্রেটি হওয়া নাকি কোন সামাজিক বক্তব্য রাখা অথবা দার্শনিক চিন্তার প্রকাশ করা। যেমন আমরা দিলনাওয়াজ করলাম। দিলনাওয়াজে আমরা “দ্যা সেমা” ব্যবহার করেছি । সেমা হল সুফিতে ইউজ করে । ঘুরে ঘুরে ঘুরে ঘুরে মেডিটেশন করছে ,ঘূর্ণি চলন দিয়ে মেডিটেশন করছে । হোয়াট আর দে ট্রাইং টু সে ? দেয়ার বডি হ্যাজ দ্য পাওয়ার টু এচিভ ট্রুথ । তুমি কি সেটা বিশ্বাস করো ? আমি করি ! তোমার নাচের মাধ্যমে তুমি কি পেয়েছো! নিজেকে প্রশ্ন করতে হয় । আর আমাদের উপমহাদেশে তো আমরা বিশ্বাস করি যে মস্তিষ্ক শুধু মাথার উপরে নয় ,চক্র তো সারা শরীরে তাই না। প্রত্যেকটা চক্র - ইট ইজ ইনভিগারেটেড ।


ইফ ইটস ইউ রিয়েলাইস দেয়ার'স মোর টু লাইফ দেন ওয়ানডে কে কি কথা বলল , কে কি গসিপ করলো কিচ্ছু যায় আসে না । তোমার শেষ চক্রটা তো মাথার উপরে । কার সাথে ইন্টারেক্ট করছো তুমি । ইজ দেয়ার এনাদার পাওয়ার ? প্রশ্ন করতে হয় নিজেকে ।দেখা যাক ছোট ছোট প্রয়াস বেশি বড়Suraiya Islam Ria: বর্তমানে বাংলাদেশে পারফর্মিং আর্টস এর প্রদর্শনী অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে গেছে যার ফলে চর্চাও কমে গেছে ।এই পরিস্থিতিকে আপনি কিভাবে দেখেন?

Lubna Marium: আমি একমত না । এখানে মোটেও চর্চা কমেনি সব জায়গায় হচ্ছে । বরং বিশেষ করে আমাদের সংস্থা থেকে আমরা তো দ্বিগুণ করে ফেলেছি ।এ ধরনের কথা, এই ধরনের প্রতিক্রিয়া হচ্ছে বলে এটা প্রমাণ করার জন্য আমরা প্রতি দুমাস পর পর শিল্পকলায় অনুষ্ঠান করছি , দিলনাওয়াজ (ডান্স প্রডাকশন) করছি , ওয়ার্কশপ করছি আমি তো কম দেখছি না কোথাও ।এগুলো সব রাজনৈতিক বুলি। এগুলো কানে নেওয়া উচিত না । আমার উপর নির্ভর করে ।আমাদের তো কেউ কোনদিন বন্ধ করেনি কখনো । আমরা শিল্পকলাতে করি আর শিল্প কলা হলো পাবলিক স্পেস যেখানে সবাই আসে। হ্যাঁ কিছুটা মৌলবাদী চিন্তা যেহেতু রাজনৈতিকভাবে মৌলবাদী দলগুলো একটা স্থান পাচ্ছে কিছুটা তারা একটা জায়গা জুড়ে তাদের বক্তব্য জোড় গলায় বলতে পারছে। আমার উপর নির্ভর করে যে আমি তাদের বক্তব্য শুনবো কি না ,সেটাতে ভীত হব কি না । একটা জিনিস তোমাকে মনে রাখতে হবে পূর্ব বাংলায় মানুষ কিন্তু ভীষণ বহু মাতৃক আর বিশ্বাসের বেলায় ।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে মানুষ আর মনসার পূঁজা করছে ,পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ছে আবার সাথে বনভবিবির পূঁজা করছে ।এই জিনিসটা বৃহত্তর ভারতে অনেকে বোঝেনা । লালনের মত মানুষ যেই দেশে জন্ম নিয়েছে যেখানে লালনে এত বেশি শ্রদ্ধা করে মানুষ ,এত চর্চা হয় সেখানে কখনো শিল্পচর্চা বন্ধ হতে পারে নSuraiya Islam Ria: আপনার মতে আর্ট কি সম্পূর্ণভাবে ক্যারিয়ার নির্ভর? কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি যা দেখি আগে যেরকম অনুষ্ঠান হতো এখন সরকার বদলের সাথে সাথে অনুষ্ঠানের পরিমাণও অনেক কমে গেছে এবং এটাভিজিবল। তাহলে আর্টিস্টরা কি ক্যারিয়ারের জন্যই আর্ট চর্চা করে?

Lubna Marium: আমার নিজের জীবন থেকে বলি আমার ২৫ ২৬ বছর বয়সের আগে আমি জানতামই না যে নৃত্য চর্চা করে টাকা পয়সা পাওয়া যায় ।আমার তো কোন ধারণাই ছিল না কারণ আমরা ভাষা আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে, একটা সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে বড় হয়েছি । যখন যেখানে প্রতিবাদ করতে হচ্ছে তখন সেখানে নাচ করছি । নাচ করে প্রতিবাদ করছি আমরা । সেখানে তো টাকা পাওয়ার কোন প্রশ্নই ওঠে না কিন্তু হ্যাঁ যখন জানলাম যে শিল্পচর্চার মাধ্যমে টাকা আয় করা যায় আমি অখুশি হইনি । কারণ সব রকমের শ্রমের একটা মর্যাদা থাকা উচিত আর কেনই বা না । দুটো কেক বিস্কুট বিক্রি করে তুমি যদি ৫ টাকা পেতে পারো তাহলে তুমি বছরকে বছর সাধনা করে একটা অনুষ্ঠান করছো তুমি কেন টাকা পাবে না । আরেকটা জিনিস বলি সব শিল্পের,সব রকম চর্চার বিভিন্ন পথ থাকে । আর্ট ক্যান বি কমারশিয়াল ,আর্ট সেক আর্টিস্টিক ,আর্ট ক্যান বি ফর রিলিজিয়াস পারপাসেস । আমি কোন পথে যাত্রা করবো সেটা আমার উপরে নির্ভর করে ।


এই যে কিছুদিন আগেও অর্থির একুশে পদক নিয়ে এত কিছু হইচই হলো । অর্থি তার শিল্পচর্চা ,নাচের চর্চা ব্যবহার করেছে একটা বিশেষ দল বা একটা বিশেষ গ্রুপ অফ পিপল যারা শিল্পচর্চা করতে চেয়েছে মানসিক প্রশান্তির জন্য তাদের কাছে আর্টিস্টিক স্কেল বা এক্সিলেন্স ওটা অত বেশি গুরুত্বপূর্ণ না। কিন্তু ওরা যে শান্তি পেয়েছে, আনন্দ পেয়েছে নৃত্য চর্চা করে সেটা অর্থি তাদেরকে সহায়তা করেছে। এটা শিল্পচর্চাকে একটি অন্যভাবে দেখা ।আমি ভীষণ প্রশংসা করেছি কারণ আমার মাথায় এটা কখনো আসেনি ।


আর্ট এজ আ স্পেস ফর সুদিং , আর্ট ইজ এ স্পেস ফর রিলাক্সেশন , এখন সরকার যদি মনে করে সেটাকে পুরস্কার তো করবে একশতবার । এটা সরকারের সিদ্ধান্ত । পদবীটাত সরকারের ।এটা তাদের স্বীকৃতি। এটা বললাম কারণ আমি বিশ্বাস করি ভিন্ন জার্নির । কেউ নাচ করে বলিউডে ,কেউ নাচ করে নাইট ক্লাবে , কেউ নাচ করে শুধু ইনার আর্ট চর্চা করার জন্য, ক্লাসিক্যাল পারফরম্যান্স করার জন্য দিনরাত চর্চা করে । ইটস মাই চয়েজ সেই স্বাধীনতা আমার আছে আর তুমি বলছো যে শিল্পকলার বা সরকারি অনুষ্ঠানে নাচের চর্চাটা একটু কম দেখা যাচ্ছে আমরাও এটা নিয়ে চিন্তিত । মাত্র তো একটা নতুন সরকার গঠিত হলো দেখি ওরা কোন দিকে যায় । উই আর নট দিস ইনপাওয়ার্ড ,উই আর এমপাওয়ার্ড । আমি যদি নাচ করতে চাই কে আমাকে বন্ধ করবে । আমি আমার সংস্থা সাধনা কোনদিন কোন সরকারি অনুষ্ঠান করিনি ২৫-৩০ বছর কিন্তু সব থেকে বেশি অনুষ্ঠান আমরা করি ।আই এম এমপাওয়ার্ড আর আমি করবো । আমার যদি করার ইচ্ছা থাকে তুমি কে বন্ধ করার । কেউ বন্ধ করতে পারবে না । আজ অব্দি কেউ চেষ্টাও করেনি সাহসও পায়নিSuraiya Islam Ria: একজন পারফর্মিং আর্টিস্ট হিসেবে আপনি কি ধর্মীয় চিন্তাকে অতিক্রম করে শিল্পকে গ্রহণ করেন? যেমন পারফোমিং আর্টসের একটা নিজস্ব ধর্ম আছে ।নটের ধর্ম নটধর্ম ? এটিকে আপনি আসলে কিভাবে দেখেন?

Lubna Marium: একই উত্তর আমি দিবো । লক্ষ্যটা আমার একই । ধর্ম আমাকে সত্যের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ,আমার শিল্পচর্চা আমাকে সত্যের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে এখন আমার লক্ষ্যটা কি ধর্মচর্চার । যে কোন রকম সামাজিক বিভেদ সৃষ্টি করে যে এটা তোমার ঈশ্বর, এটা আমার আল্লাহ ,আমার কাছে পার্থক্য নেই। তুমি দুর্গা, নটরাজের পূজারী বা তুমি শিবের মন্ত্রে আস্থা রাখ আমার কাছে সবই সত্যের প্রতীক ।এক একটা সমাজ, এক একটা সংস্কৃতি্, এক একটা যুগ একেক ভাবে সত্যের প্রতীক সৃষ্টি করেছে । শিব তো সত্য, আল্লাহ সেরকম সত্য । এগুলো এক একটা প্রতীক ।মানুষ কি চাচ্ছে ? শান্তি চাচ্ছে । বৃহত্তর সামাজিক একটা ঐক্য চাচ্ছে। সামনে একটা প্রতীক্ষা রয়েছে । এখন আরব দেশে তো আর সংস্কৃত ভাষায় কোরআন হতো না তাই না । আরব দেশে আরবি ভাষাতে ওভাবে হয়েছে কিন্তু লক্ষ্য তো একই। সেজন্য শিল্পচর্চাটা আমার কাছে কখনোই বিরোধ মনে হয় না। ইট ডিপেন্ডস অন ইন্ডিভিজুয়াল । আমি কি চাচ্ছি ,আমার লক্ষ্যটা কি ! পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে আমি কি পাচ্ছি বা মনিপুরী বা ভরতনাট্যম করে আমি কি চাচ্ছি ! আমার উপরে নির্ভর করে।

Suraiya Islam Ria: আমার ব্যক্তিগত পরিচয় এর মাধ্যমে আমি যতটুকু জানি আপনি সংস্কৃত জানেন আপনি সংস্কৃত কেন শিখতে আগ্রহী হলেন এর প্রয়োজনীয়তাটা আপনি কিভাবে দেখছেন?

Lubna Marium: আমি মূলত একটা পড়ুয়া মানুষ। অনেক বই পড়ি আর সব ধরনের বই পড়ি । ইংরেজি, বাংলা, গল্প ,কবিতা ,প্রবন্ধ । প্রবন্ধ ভীষণ পড়ি । তা আমরা আবার মানুষ হয়েছি এই ভাষা আন্দোলনের সময় । ভাষা আন্দোলনের খুব বড় অবলম্বন ,বাংলা ভাষা আন্দোলনের অবলম্বন ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। তার আমরা প্রতিবাদী যতসব আয়োজন করছি সেখানে রবীন্দ্র সংগীত গাওয়া ,রবীন্দ্র সংগীতের উপরে নাচ করা সেজন্য ছোট থেকে আমি আর আমার বোন বসে বসে কম্পিটিশন করতাম গীতবিতান এর উপর । গীতবিতানের কোন একটা পেজ খুলে কে কয়টা গান জানে তা নিয়ে । বেশিরভাগ গানই জানতাম আমি । এই পরিস্থিতি ছিল রবীন্দ্রনাথের আমাদের কাছে। রবীন্দ্রনাথের গল্প ,কবিতা, গানের মধ্যে আমার কাছে সবচেয়ে বেশি পছন্দ হলো ওনার প্রবন্ধ আর তার প্রবন্ধে কথায় কথায় উনি উপনিষদের উদ্ধৃতি দিয়েছেন । তো আমার ভীষণ কৌতূহল জাগলো কি গ্রন্থ এগুলো ,ভাষা কি । আর কিছু বয়স হওয়ার পর নাচ শেখার পর নাট্যশাস্ত্রের সাথে পরিচয় ।মনমোহন ঘোষ এর নাট্যশাস্ত্রের অনুবাদ পড়ে তখন মনে হল একটু শিখি ভাষাটা । আমার সৌভাগ্য রাধাবল্লভ ত্রিপাঠীর কাছে পড়াশোনা করেছি আমি ,উনি তো নাট্যশাস্ত্রবীদ । আবার নাট্যশাস্ত্র পড়তে গেলে তো অভিনব গুপ্তকে জানতেই হয় ,উনি তো সবচেয়ে বড় টিকাকার । অভিনব গুপ্তকে জানতে গেলে কাশ্মীরি শৈববাদ জানতেই হয় ,কাশ্মীরি শৈববাদ জানতে গেলে জানতে হয় চিন্তাধারার দুই স্রোতঃ বৈদিক আর তান্ত্রিক ।এখন বৈদিক স্রোত একটা আর একটা আগোমিক যেটা তান্ত্রিক। আগম হল তন্ত্রের যত বই । আগমিক দর্শন পড়তে গিয়ে তন্ত্রের সাথে আরেকটু ঘনিষ্ট ভাবে পরিচয় হওয়ার পর আমি এটা খুঁজতে চেয়েছিলাম যে বাংলাদেশে আগমিক চিন্তা কোথায় পাওয়া যায় ।বৌদ্ধচিন্তন ! বৌদ্ধচিন্তনের মধ্যে তান্ত্রিক বৌদ্ধচিন্তন বিশেষ করে বজ্রযান ।


যা পূর্ব বাংলার একটি মৌলিক চিন্তা । গর্ববোধ করা উচিত আমাদের যে এইখানে এত সুন্দর, এত গভীর চিন্তা হয়েছে দর্শন নিয়ে । এইজন্য ছোট থেকে সংস্কৃত জানার আগ্রহএবং সংস্কৃSuraiya Islam Ria: রিলিজিয়ান এবং আর্ট একে অপরকে কিভাবে সহায়তা করে এবং কিভাবে কখনো কখনো বিরোধিতাও সৃষ্টি করে । যেমন সংস্কৃত মূলত সনাতন দর্শনের কথা বলে সেই প্রেক্ষিতে অন্য ধর্মের একজন ব্যক্তি হিসাবে আপনি এটিকে কিভাবে দেখেন বা অন্য কেউ এটিকে কিভাবে দেখবে ?

Lubna Marium: শিল্পচর্চা আর ধর্মচর্চার একটা জটিল সম্পর্ক রয়েছে । বহু সময় বহু যুগে আমরা দেখছি যে ধর্ম, ধর্ম চিন্তা অনেক সময় ইন্সপায়ার করে আর্টিস্টিক এনডেভার্স কিন্তু যখন একজন শিল্পী বা তার সেই শিল্পচর্চা ধর্ম চিন্তাকে প্রশ্ন করে তখনই একটা বিরোধ হয় ।যেমন সালমান রুসডির-দ্যা সেটানিক ভার্সেস ,এটাতো একটা শিল্পচর্চা বা সাহিত্যচর্চা । বাট হি হ্যাস কোয়েশ্চেন রিলিজিয়ান তখনই একটা বিরোধ সৃষ্টি হয়।

এখন আমি মনে করি যে বিরোধ তখন হয় যখন শিল্পের লক্ষ্যে এবং ধর্মের লক্ষ্যে যদি একটা ফারাক সৃষ্টি হয় ,একটা ভিন্নতা আসে। আমার কাছে ধর্মের লক্ষ্য হলো সত্যের কাছে পৌঁছানো ।শিল্পেরও একই লক্ষ্য। যদি আমার লক্ষ্য একই হয় তখন বিরোধ কিন্তু সৃষ্টি হয় না কিন্তু ধর্মকে মানুষ যেভাবে ইন্টারপ্রেড করে যেভাবে সেটা চর্চা করে সেটায় নিশ্চয়ই পার্থক্য আছে। ডিপেন্ডস কোন যুগের কথা বলছো তুমি ,কোন দেশের কথা বলছো ,কোন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ধর্মটা ব্যবহৃত হচ্ছে কিন্তু মূলত মৌলিকভাবে আমি মনে করি না ।আমার কাছে নাচ শিখতে আসে ছেলেমেয়েরা ,বাবা-মাইয়েরা প্রশ্ন করে আচ্ছা রোজার সময় কি নাচ চর্চা করা যাবে! আযান পড়লে কি নাচ বন্ধ করা উচিত বা মুসলমান ছেলে মেয়েরা কেন গুরু বন্দনা করবে! তো আমি সবসময় বলি যে আমি তো কোন বিরোধ দেখি না ।কেন গুরু বন্দনা করব না ? আমার ধর্ম তো আমাকে কখনো বলেনি গুরুকে শ্রদ্ধা না করতে ।সেটা যে ভাষাতেই হোক আর এগুলো সব প্রতীক, মূলত হল শ্রদ্ধাটা ।এখন আমি যদি বৈষয়িক ইন্টারপ্রিটেশন যেটা সেটাকে ছাপিয়ে যদি বৃহত্তর একটা ইন্টারপ্রিটেশনে পৌঁছাতে চাই তখন দেখবে কোন বিরোধ নেই । এটা আসলে ব্যক্তির উপর নির্ভর করে। আমার ধর্মচর্চার লক্ষ্যই বা কি আর শিল্পচর্চার লক্ষ্যই বা কি ! আমি মনে করি দুটোই যদি সত্যের কাছে পৌঁছাতে চায় তো সেই ক্ষেত্রে আসলে কোন বিরোধ হয় না ।

Discipline / Topic বাংলা

Explore more on Charcha

Discover the latest writings, journal papers, talks, and literary discussions from all Poorvam contributors.

Go to Charcha feed

Publish with Poorvam

Double-blind peer review, open access, and a platform built for Indic scholarship.